April 18, 2014

তুমিও পারো - Mustafizur Rahaman



শুরুটা প্রায় এইরকম ভাবেই হয়ে থাকে। ছোটো বেলায় বাড়িতে বাবা কাকাকে দেখে, হঠাৎ করে বড় হয়ে ওঠার সুপ্ত বাসানায় চিলেকোঠায় চলে যাওয়া, কিম্বা স্কুল থেকে বাড়ি আর বাড়ি থেকে টিউশন-এর পথে রাস্তার পাশে একটু লাইট বিশ্রাম নেয়া আর এতেও না বিগড়ালে কলেজ তো আছেই। প্রথমে সিনিয়রদের অগ্নিপরীক্ষা নিজেকে প্রমাণ করা তুমি কতটা macho হয়েছ আর তার পরে এই বন্ধু সেই বন্ধুকে বলা “এই একটু দেখি”। এই ভাবে চলতে থাকা আর দেখা দেখির পরিমাণটাও একটু বাড়তে থাকা। হঠাৎ একদিন কোন এক সুন্দরীর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া, হাটি হাটি পায়ে পায়ে একটু সাহস সঞ্চার করে বলেই ফেলা। আর কি, যা হবার তাই হয়, এক চেষ্টায় কার কবে লটারি লেগেছে! অগত্যা সন্ধ্যে বেলায় মাঠের কোণে বসে, অশ্রু নয়নে বন্ধুকে বলা “দে আজকে একটা গোটা খেয়ে দেখি, এই জীবনের আর কোন আশা ভরসা নেই”। বললাম না, শুরুটা এই ভাবেই হয়ে থাকে......ধুম্রপানের।

আমার ধুম্রপানও অনেকটা এইভাবে শুরু হওয়া, তার পরে জীবিকা সূত্রে হায়দ্রাবাদে  চলে আসা, নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে, আত্মীয় পরিজন দের থেকে দুরে থাকা আর হাতের অঢেল সময় খরচা করার উপায় না থাকা। সুতরাং একটা থেকে দুটো, দুটো থেকে তিনটে এবং ক্রমবর্ধমান। Experiement টা ধীরে ধীরে addiction হয়ে গেছে। একদিন মা বুঝতে পারলেন, ক্রমশ বাবা ও। আর ধরা পড়ে লাজ লজ্জার ভয়ও তখন সীমারেখা আতিক্রম করে গেছিল( কোথায় কেমন করে ধরা পড়েছি আর তার ফল কি হয়েছে, সেই বিস্তারিত বর্ণনায় নাই বা গেলাম)। ক্রমশ একদিন single থেকে married হলাম, নেক্সট প্রমোসান ও হল কয়েক বছর পরে। কিন্তু আমার স্মোকিং স্ট্যাটাস টা “smoker” এবং “non-smoker” এর মধ্যে একটা “sinusoidal wave” এ নিরন্তন দোদুল্যমান থাকলো। আজ প্রমিস করা তো কাল প্রমিসের নতজানু হওয়া, কখন অফিস এর কাজের চাপ, কখন বন্ধুদের আড্ডা, আর কখন বা dinner e সুস্বাদু বিরিয়ানি এর পরে জাস্ট আ feel-good-factor। বাবা, মা এর বকুনি, আবেদন, স্ত্রীর মান-অভিমান। একদিন বাবার একটা চিঠি পেলাম, ভিতরে কিছু নিউজ পেপার কাটিং, নিজের হাত এ লেখা কিছু লাইন আর শুধু একটা অনুরোধ - স্মোকিং ছেড়ে দেয়ার জন্য।

নিজেকে এত তুচ্ছ আর এত ঘৃণ্য আগে কোনদিন মনে হয়নি। তৎক্ষণাৎ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এর পরেও যদি না শুধরাই, তাহলে হয়ত কোন দিনই শুধরাব না। কাকতালীয় বলতে পার বা আল্লাহ্র আশীর্বাদ, এর কিছু দিন পরেই একটা LIC পলিসি করানোর ছিল, আর জানলাম smoker & non-smoker এর প্রিমিয়াম এর ফারাক কয়েক হাজার টাকা। সেই কথায় আছে না “না বাপ বড়া না ভাইয়া, সবসে বড়া রুপাইয়া”, ব্যাস ওতেই কাজ হোল! কাউকে না, শুধু মাত্র প্রমিস করলাম নিজের কাছে।

এর পরে বেশ কয়েক মাস কেটে গেছে, এখনো প্রমিসটা অটুট আছে। BIH এর পিকনিক, ছোটখাটো দেখা সাক্ষাৎ, ফুটবল প্রাকটিস মনকে নাড়া দেয়না বললে ডাহা মিথ্যা হবে, কিন্তু নিজেকে বোঝাই যে এটা ক্ষণিকের আবেগ, এটা সংযত হলেই সব সম্ভব।

আমরা সবাই বাঁচতে চাই, অনেক অনেক দিন ধরে, হই-হুল্লর, হাসিঠাট্টা, মৌজ-মস্তি নিয়ে। কিন্তু জীবনটা কুড়িয়ে পাওয়া চার আনা নয়, এটা ষোলআনা আশীর্বাদ, প্রতিটা শ্বাস-প্রশ্বাস আমাদের সৌভাগ্য। একটু যদি চারপাশে তাকিয়ে দেখি, অসুস্থ কারো সাথে দুদণ্ড কথা বলি, দেখব সবাই এই সৌভাগ্যের শরিক নয়, প্রতিটা মুহূর্ত একটা লড়াই. বেচে থাকার লড়াই, খোলা হাওয়ায় নিশ্বাস নেওয়ার লড়াই, তাহলে কেন আমরা মিছিমিছি ক্ষণিকের সম্মোহনে এই বদোভ্যাস কে আঁকড়ে থাকি? আর একবার চেষ্টা করেই দেখনা, অনেকেই পেরেছে, আরও অনেকে পারবে, আমি পেরেছি, তুমিও পারবে...

Note:
  1. Today morning, I had read two articles on Anandabazar, first one telling story of a man’s survival from cancer & second one about how, many people are quitting the habit of smoking. These two article along with my own experience made me feel to share my thoughts.
  2. I am writing something in Bengali after my 12th & a blog article after almost 4-5 years. I know there are errors in every aspects of literature including spelling mistakes. Help me write something better in my next attempt by providing your suggestion. Critical feedback is more welcome than the likes (if any).
_____________________________________________________________________________


Mustafizur Rahaman

About the author: Mustafizur Rahaman is a Manager at software solutions firm in Hyderabad. He is a graduate from Jadavpur University and have been in this industry for a long time. His current passion is photography and has recently started blogging again. He also has interest in music and drama as a viewer. His association with Bengalis in Hyderabad is less than a year now but have slowly mingled in the group and have started taking up responsibilities too. He likes to spend time with his 4 year old son and take his pictures.





--------------------------------------------------------------------------------------------

-------------------------------------------------------------------------------------------
Follow Us:

1 comment: