July 24, 2014

কোলকাতার এক মিষ্টি দুপুর - শিউলি গাঙ্গুলী

This is an entry from the "Celluloid Diary" blogging contest conducted as a part of run up to the Hyderabad Bengali Film Festival 2014. We received many entries and the jury selected few among them to be showcased. The winning entry will be published in the upcoming edition of Kolaj, the yearly magazine, published by Bengalis in Hyderabad.


Theme: বিগত ১০ বছরের মধ্যে কোনও উল্লেখযোগ্য সিনেমা যেটা তোমার ভালো লেগেছে সেটার মধ্যে এমন কি বিশেষত্ব ছিল যা তোমাকে সব থেকে বেশি আকৃষ্ট করেছে? (Think about some noteworthy Bengali films over the last decade and tell us about one which appealed to you the most. What aspect(s) of it were the most captivating, in your opinion?)

২০১২এর ডিসেম্বরের কোলকাতার এক মিষ্টি দুপুর।  মুক্তধারা সিনেমার নুন শোয়ে হলে গিয়ে দেখি হাউজ ফুল। ভাবলাম ছবিটিতো সত্যজিত রায় বা মৃণাল সেনের মতো কোন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকদের নয়, তবুও দর্শকদের মধ্যে কেন এত উৎসাহ? সুতরাং কিছুটা দ্বিধাগ্রস্থ হয়েই হলে গিয়ে বসলাম।

নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত মুক্তধারা ছবিটি যতই এগিয়ে চলল মুগ্ধ বিস্ময়ে তার অন্তর্নীহিত রস আস্বাদন করতে লাগলাম। বিগত দশকে যে কয়টি বাংলা সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ তথা উপস্থাপনার উৎকর্ষতায় এই ছবিটিকেই আমি শীর্ষ স্থানে রাখবো। জেলবন্দিদের দৈনন্দিন অত্যাচারিত জীবনের অন্তরালেও যে সুস্থ ও স্বাভাবিক মনের এক অপরিসীম ছন্দ লুকিয়ে আছে তাকে ঘিরেই এই ছবিটির অবতারণা। ক্ষয়িষ্ণু সমাজ ব্যবস্থার সেই ঘুণধরানো অসুখটাকে একটু ভালবাসা ও সহানুভূতি দিয়ে কাছে টেনে নিলে কয়েদিদের জীবনেও যে মুক্তির স্বাদ আসে সেই জীবন দর্শনের কথাই ছবিটি আমাদের প্রতি পদে পদে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। পরিচালকদ্বয় যে মুন্সীয়ানায় জেলখানার সেই মুক্তির আলোর পথটাই উন্মুক্ত করেছেন সেটাই আমাকে ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট করেছে।  



সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নৃত্যাঙ্গণারূপী নীহারিকাও যেন সংসারের বৃত্তে হাঁপিয়ে ওঠা এক কয়েদি। হঠাৎ জেলখানার বন্দিদের নিয়ে একটি অভিনব নাচের ওয়ার্কশপ প্রকল্পে তার যুক্ত হবার সুযোগ আসে। বহু পরিশ্রম ও বাধাবিঘ্নের পর মঞ্চস্থ হয় নৃত্যনাট্য‘বাল্মীকি-প্রতিভা’। দস্যুরূপী রত্নাকর হল নাইজেল নামে বাস্তবিক জীবনে সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদি। এই নৃত্যনাট্যের প্রভাবে নাইজেলের জীবনে আসে এক মহৎ পরিবর্তন। ক্রমে প্রকৃত জীবনেই সে হয়ে ওঠে বাল্মীকি। মুক্তধারাতো শুধু সিনেমা নয়, এ তো এক নূতন জীবন। এই জীবনকে আরও ঋদ্ধ করেছে নীহারিকারূপী ঋতুপর্ণা, ইউসুফ খান বেশী নাইজেল ও অন্যান্য কলাকুশলীদের মর্মস্পর্শী অভিনয়। ছবিটির বৈশিষ্ঠ্য চোখে পড়ে দৃশ্যের সংলাপে, নৃত্য পরিকল্পনায়, ক্লাইমেক্স, হিউমার ও নিপুণ নিটোল সম্পাদনায়। সব মিলিয়ে এ এক অসম সাহসী সৃজনশীল পরিবেশনা।         

নৃত্যনাট্যের কোমল পরশেই বেরিয়ে আসে জেলের ভেতর ও বাইরের মানুষগুলোর খোলনলচে। শ্রাবণের ধারার মতো মুক্তস্নান সেরে, সবার ভেতরের জমাট বাঁধা অন্ধকার হয় দূর। আসে নতূন জীবনের আগমনী বার্তা। ছবিটি শেষ হবার পরও আমাদের মনের পাতায় ধরা থাকে তার রেশ।    


বিঃদ্রঃ  বাংলা সিনেমার উপর এধরণের কুশলী চিন্তাধারার Blog Competitionএর বিষয়বস্তু নির্বাচন করে HBFF Fans প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আমাদের মধ্যে মত বিনিময়ের যে সুযোগ করে দিয়েছেন সেজন্য তাদের জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ । 


--------------------------------------------------------------------------------------

--------------------------------------------------------------------------------------
Follow Us:

No comments:

Post a Comment