October 11, 2015

পুজো এসে গেল

Kolaj Pujabarshiki 2015


পুজো এসে গেল, বিশ্বের আপামর বাঙ্গালী এখন আকাশে ‘সাদা মেঘের ভেলা’ আর রোদ্দুরে পুজো, পুজো গন্ধ পেতে শুরু করে দিয়েছে। এ এক অদ্ভুত টান, শৈশব থেকে ঢাকের শব্দ, পাড়ার অঞ্জলি, নতুন জামা, আর ঠিক এক সপ্তাহ আগে ভোর চারটের মহালয়া, ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’ ঠিক তখনই জানলা থেকে বাইরে তাকালে, ভোর রাতের আকাশের এক কোণে মনে হয়, ওই তো মা দুর্গা তৈরী হচ্ছেন, এই এলেন বলে। ব্রম্ভা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের তেজ থেকে সৃষ্টি হলেন মা, শিব দিলেন ত্রিশূল, ব্রম্ভা দিলেন জপমালা আর কমণ্ডলু, ইন্দ্র দিলেন বজ্র,পবনদেব দিলেন শঙ্খ, এইসব বহু অস্ত্রে সুসজ্জিতা দেবী প্রস্তুত হলেন মহিষাসুর বধ করতে। এসব শুনতে, শুনতে পুজো এসে যায়। হায়দ্রাবাদের ‘বেঙ্গলিজ ইন হায়দ্রাবাদ’ গ্রুপেও এইরকম পুজো,পুজো নস্ট্যালজিয়া কাজ করে সবার মধ্যে,কিন্তু কেউ কেউ ভাবল, শুধুই ঘোরাফেরা,খাওয়া দাওয়ার বাইরে গিয়ে এই পুজোতে আমরাও কিছু একটা সৃষ্টি করে ফেলি। তাই কারুর ছোটগল্প, কারুর বড়গল্প, কবিতা, রম্যরচনা, ভ্রমণকাহিনী, শব্দছক আর সবার ওপরে একটা ইচ্ছের জোরে তৈরী হল ‘কোলাজ’, হায়দ্রাবাদের একমাত্র পূজাবার্ষিকী। হইহই করে এবারে তার সাত বছরের জন্মদিন। 

অফিস সামলে, প্রজেক্টের ডেডলাইন সামলে, যারা লেখা দিতে চায়, বসে যায় লিখতে, কেউ ছোটে ছোট-বড় রেস্টুরেন্ট,  দোকানগুলোয় স্পন্সরশিপের জন্য, কেউ খোঁজে ভাল আঁকা বা আঁকিয়ে, কোলাজের মলাট বানানোর জন্য, কেউ আসানসোল থেকে আমেরিকা অব্দি বন্ধুদের রোজ তাগাদা দেয়, ‘কই রে তোর কবিতা লেখা হল’, ‘একটা গল্প চাই এবারের কোলাজের জন্য’। বাংলা, ইংরাজী বিভাগের সম্পাদকদের কাছে পৌঁছয় সব লেখা। এইবার শুরু কাজ টাইপ করবার। যদিও শোনা যায়না, কিন্তু বেশ কল্পনা করে নেওয়া যায়, চারিদিকে শুধু কি-বোর্ডের খটাখট শব্দ হচ্ছে, কেউ অফিস যাবার আগে, কেউ অফিস থেকে ফিরে, কেউ ভোরে আলার্ম দিয়ে উঠে, কেউ উইকএন্ডের সিনেমা দেখা বাতিল করে, কাজ করে যায়, কোলাজের কাজ। তারপর সবচেয়ে কঠিন কাজ, পেজ সেটিং, তারপর প্রেস ঘুরে হাতে আসে সেই নতুন বইয়ের গন্ধ নিয়ে,বলতে পারি অনেকটা পুজোর শিউলি ফুলের সুবাস নিয়ে, আমাদের ‘কোলাজ’।  

গত কয়েক বছর ধরে কোলাজ এই দায়িত্ব নিয়েছে যে পত্রিকা যাতে সবার হাতে আসে। সাধারণ পাঠক তো বটেই, যারা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেখা পাঠিয়েছেন ও লেখা প্রকাশিত হয়েছে, তাদের সবার হাতে। তাই কাজ শুধু একটা ম্যাগাজিন প্রকাশ করেই থেমে থাকেনা, প্রত্যেকের কাছে পাঠান,এমনকি অনলাইনে অর্ডার করে কোলাজ সংগ্রহের ব্যবস্থাও আছে। প্রকাশের আগেই বই কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তার পরেই হাতে পেয়ে যাবেন কোলাজ। রয়েছে এইসব ব্যবস্থা এবং ফেসবুকে সব লিঙ্ক দেওয়া আছে, কিভাবে হাতে পাবেন কোলাজ। সবার প্রচেষ্টায় কোলাজ আজ একটা পূর্নাঙ্গ ম্যাগাজিন। বাংলার বাইরে বসে, একেবারে আনকোরা একটা ইচ্ছে থেকে এমন একটি সফল পত্রিকা বার করে যাওয়া কিছু কম কথা নয়।  


আমরা এখন কথায় কথায় বলি ‘সময় নেই’। কতকিছুর জন্যই সময় হয়না আমাদের। সময়ের অভাবে মরচে পড়ে যায়, রোজ দুপাতা ডায়েরি লেখা, বা অবসরে একখানা কবিতা লেখার অভ্যাসে। অথচ শুধু কোলাজের কথা ভেবেই, বি আই এইচ এর কিছু ছেলেমেয়ে সময় বার করে যায় যেভাবে হোক। আমরা চাই,এমন সময় সকলেই একটু করে জমা রাখতে শুরু করি আজ থেকেই, যাতে পরের বছর আবার কোলাজকে নিয়ে শুরু হোক দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। 

- পিয়ালী চক্রবর্তী 

Sharadiya Kolaj 2015 is now available for sale here:
http://www.bengalisinhyderabad.com/webstore

----------------------------------------------------------------------------------------------------------
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
Follow Us:

No comments:

Post a Comment